Tuesday, August 14, 2018

স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হল - নির্মলেন্দু গুন

https://rassel23.blogspot.com/
Jatir pita . Khepa

কবি নির্মলেন্দু গুনের ‘স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হল’ কবিতাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পটভূমির উপর রচিত একটি কবিতা।মূলত, জাতির পিতার এই ভাষণটিই আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।তাঁর এই ভাষণের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে আমাদের স্বাধীনতা শব্দটি।
স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হল - ( ভিডিও )

১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মহলের হীন অপচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে কবি নির্মলেন্দু গুন কবিতাটি রচনা করেন। এই কবিতা সমন্ধে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন-
https://rassel23.blogspot.com/
Nirmolendu gun . Khepa

আসলে আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ছিল একটি কবিতা। এই ভাষণটি কাব্যসমৃদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে মার্কিন সাপ্তাহিক 'টাইমস' পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর 'পয়েট অব পলিটিকস' শিরোনামে একটি প্রচ্ছদ স্টোরি করেছিল। এমনকি মার্কিনরাও এই ভাষণ স্টাডি করে তার মধ্যে কবিতার সন্ধান পেয়েছিল। ভাষণটি স্বয়ং একটি কবিতা হওয়ায় তা নিয়ে কবিরা খুব বেশি কোনো কবিতা লেখেননি। এই ভাষণে ১০৩টি লাইন আছে। ১৯ মিনিট দৈর্ঘ্য। ভাষণটি তিনি এমন চমৎকারভাবে দিয়েছিলেন, প্রথমেই 'ভায়েরা আমার' বলে যে সম্বোধন করলেন, মনে হলো, যেন হাজার বছরের বাঙালির যে ভালোবাসার তৃষ্ণা এবং যে প্রত্যয় নির্ভরতা, যার স্বপ্ন দেখেছে সে, সেই নেতা এসে আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছেন। ১০ লাখ লোক একসঙ্গে লাফিয়ে উঠছিল সব মানুষ যেন আনন্দে উত্তেজনায় একাকার। তাদের নেতার উপস্থিতিতে নিজেদের শক্তির প্রদর্শন করছিল তারা। এটি একটি অবিস্মরণীয় ভাষণ


১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ।

১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্চাভিলাষী অফিসার বিশ্বাস ঘাতকের হাতে নিহত হন।
https://rassel23.blogspot.com/
15th August national mourning day


সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেঃ শেখ কামাল, পুত্র লেঃ শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নিপতি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবী সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভ্রাত্ষ্পুত্র শহীদ সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল আহমেদ এবং ১৪ বছরের কিশোর আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে ঘাতকরা হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে ফিরে আসার পর। ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন সহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই দিবসটি যথাযথভাবে পালন করা হয় এবং এই দিনটিকে সরকারী ছুটি হিসেবে পালন করা হয়।

source :  http://www.online-dhaka.com/139_1378_26365_0-jatiyo-shokh-dibosh-dhaka-city.html 

Sunday, August 12, 2018

কুরবানির গরু মোটাতাজা করন ???দেখুন, সুস্থসবল ও নিরোগ গরু চেনার উপায়।


This video is collected from youtube channel 
All credit only for original creator.
Thanks for watching.


ইসলামি শরিয়া মোতাবেক কুরবানি ও কুরবানির পশু কেনার ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়। সুস্থসবল ও নিরোগ গরু চেনার উপায়





Monday, December 4, 2017

কবিতা

বুকের ভিতর খচ খচ করে উঠে বেদনারা ।
তুমি প্রিয়তমা; আত্মতুষ্টিতে ভাসো ।
তোমার চোখে রদেলা দিন ।
আমি উপকূলে সূর্য ডোবা দেখি ।
উর্বশীর চুলে রাত্রি নামলে ভয়াবহ একাকীত্ব বোধ করি ।
ঠিক পরদিন; তোমার চোখে সাজিয়ে নিই নিজেকে ।
পুড়ে যাবার অপেক্ষায় পথ হাটি আবারও ।

Saturday, December 2, 2017

কবিতা

ভেবেছিলাম পাথর হয়ে গেছি
আমি আর কোনোদিন কাঁদবনা  ।
কিন্তু আজ এ কি যন্ত্রণা !
খা-খা জোস্নায় ভেসে যাচ্ছে অভিমানী মেঘেদের দল,
আর আমার চোখে জল ।
আমি কাঁদছি............

Friday, December 1, 2017

কবিতা

তুমি আমি ।
আমাদের আকাংখা আকণ্ঠপ্রায় ।
তুমি আমি ।
আমরা হারিয়ে যাচ্ছি ; মিলিয়ে যাচ্ছি বিভোর স্বপনে ।

Wednesday, November 29, 2017

কবিতা

হ্যাঁ ওটা মৃত্যুই ছিল ।
আমি নেশায় মগ্ন ছিলাম ,
আর রাস্তার লাইট গুলো চমকাচ্ছিল ভূতরে নগরীর মতো ।
গাড়ি গুলো ছুটছিল বজ্র গতিতে , ওদের চোখে আগুন ছিল ।
পা বাড়াতেই প্রচণ্ড ধাক্কা !
আমাকে দুমড়ে মুচড়ে টেনে হিঁচড়ে
ফেলে দিল শীতলতম গহ্বরে ।
সময়ের জালে টান পড়ল ,
পট পট করে ছিরে গেল একেকটি সুতো ।

Tuesday, November 28, 2017

রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১)। বাংলাদেশের কবিতায় এক অবিসস্মরণীয় নাম। মাটি ও মানুষের প্রতি আমূল দায়বদ্ধ এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি।
অকাল প্রয়াত এই কবি তার কাব্যযাত্রায় যুগপৎ ধারণ করেছেন দ্রোহ ও প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রামের শিল্পভাষ্য। সাহস ও স্বপ্নে, শিল্প ও সংগ্রামে আপদমস্তক সমর্পিত এই কবি তার স্বল্পায়ু জীবনকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তারুণ্যের দীপ্র সড়কে। নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে; হয়ে উঠেছিলেন তাদেরই কন্ঠস্বর।
কবি রুদ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্সসহ এমএ পাশ করেন। ছাত্র থাকা অবস্থায় সক্রিয়ভাবে ছাত্র ইউনিয়ন সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে বাউন্ডুলে এ কবির বন্ধুবান্ধবের সংখ্যা গুণে শেষ করা যাবে না। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন রুদ্র। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশে সবগুলো আন্দোলনে কবি রুদ্রর সশরীর অংশগ্রহণ ছিল এবং হয়তো এসব থেকেই তিনি বেশ কিছু দ্রোহের কাব্য রচনা করেন।
আর কী অবাক! ইতিহাসে দেখি সব
লুটেরা দস্যুর জয়গানে ঠাঁসা,
প্রশস্তি, বহিরাগত তস্করের নামে নানা রঙ পতাকা ওড়ায়।
কথা ছিলো, ‘আমাদের ধর্ম হবে ফসলের সুষম বন্টন,
আমাদের তীর্থ হবে শস্যপূর্ণ ফসলের মাঠ।
অথচ পান্ডুর নগরের অপচ্ছায়া ক্রমশ বাড়ায় বাহু
অমলিন সবুজের দিকে, তরুদের সংসারের দিকে।
জলোচ্ছাসে ভেসে যায় আমাদের ধর্ম আর তীর্থভূমি,
আমাদের বেঁচে থাকা, ক্লান্তিকর আমাদের দৈনন্দিন দিন”
পারিবারিক স্বচ্ছলতা থাকা স্বত্ত্বেও সেই পথ বেছে না নিয়ে বরং নিজের কয়েকটা রিক্সা ছিল, তা থেকে যা আয় হতো, তাতেই বেশ চলতেন। এছাড়া ঠিকাদারী ও চিংড়ির খামার করেছেন আর দুহাতে টাকা উড়িয়েছেন।পাঞ্জাবী আর জিন্সের যুগলবন্দী পোষাক তার নিজস্ব স্টাইল ছিলো। পরে জেমস এটা জনপ্রিয় করেন। রুদ্রর মদ্যপ্রীতি ছিলো বলিহারী! হুইস্কির তিনি বাংলা নামকরণ করেছিলেন ‘সোনালী শিশির’।তার জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে অন্যতম "যে মাঠ থেকে এসেছিল স্বাধীনতার ডাক, সে মাঠে আজ বসে নেশার হাট", "বাতাসে লাশের গন্ধ"। এই কবির স্মরণে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মংলার মিঠেখালিতে গড়ে উঠেছে "রুদ্র স্মৃতি সংসদ"। বিখ্যাত এবং বিতর্কিত বাংলাদেশী নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে তিনি ১৯৮১ সালে বিয়ে করেন এবং ১৯৮৬ সালে তাঁদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।
ব্যক্তিজীবনে চরম মাত্রায় খামখেয়ালী ও স্বেচ্ছাচারী ছিলেন এ কবি। তার বাবাকে লেখা একটি চিঠিতে তার ব্যক্তিত্ব বেশ সুস্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছিলো। বিয়ের পরপরই তিনি তার বাবাকে এই চিঠিটি লিখেন।

আব্বা,

পথে কোনো অসুবিধা হয়নি। নাসরিনকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে গত পরশু ঢাকায় ফিরেছি। আপনাদের মতামত এবং কোনোরকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আমি বিয়ে করে বৌ বাড়ি নিয়ে যাওয়াতে আপনারা কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু আমি তো আমার জীবন এভাবেই ভেবেছি। আপনার সাথে আমার যে ভুল বোঝাবুঝিগুলো তা কখনই চ্যালেঞ্জ বা পিতা-পুত্রের দ্বন্দ্ব নয়,স্পষ্টতই তা দুটো বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব। ব্যক্তি আপনাকে আমি কখনোই ভুল বুঝিনি,আমি জানি না আমাকে আপনারা কিভাবে বোঝেন। এ তো চরম সত্য যে, একটি জেনারেশনের সাথে পরবর্তী জেনারেশনের অমিল এবং দ্বন্দ্ব থাকবেই। যেমন আপনার সাথে আপনার আব্বার অমিল ছিলো, আপনার সাথে আমার এবং পরবর্তীতে আমার সাথে আমার সন্তানদের। এই দ্বন্দ্ব ও সংঘাত কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব নয়। আমরা শুধু এই সংঘাতকে যুক্তিসঙ্গত করতে পারি; পারি কিছুটা মসৃণ করতে। সংঘাত রোধ করতে পারি না। পারলে ভালো হতো কিনা জানি না। তবে মানুষের জীবনের বিকাশ থেমে যেতো পৃথিবীতে।

আমার মনে পড়ে না। এই ছাব্বিশ বছরে একদিনও পিতা হিসাবে আপনার সন্তানদের আদর করে কাছে টেনে নেননি। আশেপাশে অন্য বাবাদের তাদের সন্তানদের জন্য আদর দেখে নিজেকে ভাগ্যহীন মনে হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কখনো কষ্ট প্রকাশ করিনি। ছেলেবেলায় আমার খেলতে ভালো লাগতো। খেললে আমি ভালো খেলোয়াড় হতাম। আপনি খেলতে দিতেন না। ভাবতাম, না খেললেই বোধ হয় ভালো। ভালো মানুষেরা বোধ হয় খেলে না। আবার প্রশ্ন জাগতো, তাহলে আমার খেলতে ভালো লাগে কেনো? আমি কি তবে খারাপ মানুষ? আজ বুঝি, খেলা না খেলার মধ্যে মানুষের ভালো-মন্দ নিহিত নয়। কষ্ট লাগে। আমিও স্বপ্ন দেখতাম, আমি ডাক্তার হবো। আপনার চেয়ে বড় ডাক্তার হয়ে আপনাকে ও নিজেকে গৌরব দেবো। সন্তান বড় হলে পিতারই তো সুখ। আমি সেভাবে তৈরীও হচ্ছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কি যে এক বিরাট পরিবর্তন এলো ! একটি দেশ, একটি নতুন দেশের জন্ম হলো, নতুন চিন্তার সব হতে লাগলো। নতুন স্বপ্ন এলো মানুষের মনে। সবাই অন্যরকম ভাবতে শুরু করলো। আমিও আমার আগের স্বপ্নকে ধরে রাখতে পারিনি। তার চেয়ে বড় এক স্বপ্ন, তার চেয়ে তাজা এক স্বপ্ন, তার চেয়ে বেগবান এক স্বপ্নকে আমি কাছে টেনে নিলাম। আমি সিরিয়াসলি লিখতে শুরু করলাম। আগেও একটু আধটু লিখতাম, এবার পুরোপুরি। আমি আমার আগের সব চিন্তা-ভাবনার প্রভাব ঝেড়ে ফেলতে লাগলাম। চিন্তা থেকে, জীবন থেকে, বিশ্বাস-আদর্শ থেকে, অনেক কিছুর সঙ্গেই সংঘর্ষ হতে লাগলো। অনেক কিছুর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির শুরু হলো। কখনো ক্ষোভে আমি অপ্রত্যাশিত কিছু করে ফেলতে লাগলাম। আপনার সাথে আমার সাথে বিশ্বাসের সাথে মিল এমন মানুষের দেখা পেলাম। তাদের সাথে সংঘাতও হলো। একি! সবার সাথে সংঘর্ষ হয় কেন? মনে মনে আমি ভীষণ অস্থির হয়ে পড়লাম। তাহলে কি এ পথ ভুল পথ? আমি কি ভুল পথে চলেছি? কখনো মনে হয়েছে, আমিই ঠিক, এই প্রকৃত পথ। মানুষ যদি নিজেকে ভালোবাসতে পারে তবে সবচেয়ে সুন্দর হবে। নিজেকে ভালোবাসতে গেলে সে তার পরিবারকে ভালোবাসবে। আর পরিবারকে ভালোবাসা মানেই একটি গ্রামকে ভালোবাসা। একটি গোষ্ঠীর মানুষকে ভালোবাসবে। আর একটি গ্রাম মানেই তো সারা পৃথিবী। পৃথিবীর সব মানুষ সব মানুষ সুন্দর হয়ে বাঁচবে। পৃথিবীতে কত বড় বড় কাজ করেছে মানুষ। একটা ছো্‌ট্ট পরিবারকে সুন্দর করা যাবে না? অবশ্যই যাবে। একটু যৌক্তিক হলে, একটু খোলামেলা হলে কত সমস্যা এমনিতেই মিটে যাবে। সম্পর্ক সহজ হলে কাজ সহজ হয়। আমরা চাইলেই তা করতে পারি। জানিনা এ চিঠিখানায় আপনি ভুল বুঝবেন কিনা। ঈদের আগে আগে বাড়ি আসবো। আম্মাকে বলবেন, যেন বড় মামার কাছ থেকে হাজার চারেক টাকা নিয়ে আমাকে পাঠায়। বাসায় রান্নার কিছুই কেনা হয়নি। বাইরের খাওয়ায় খরচ বেশী এবং অস্বাস্থ্যকর। আম্মার তদারকিতে দেওয়া সম্পত্তির এটুকুই তো রিটার্ন মাত্র। আপনার সেন্টিমেন্টে লাগতে পারে। লাগাটাই স্বাভাবিক। কারণ আপনার শ্বশুড়বাড়ি। আমাদের কিসের সেন্টিমেন্ট? শিমু মংলায় পড়বে, বাবু স্কুলে। আপনারা না চাইলেও এসব করা হবে। দোয়া করবেন।
শহীদুল্লাহ
তসলিমার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শ্যামা তরুণী শিমুলের সঙ্গে রুদ্রর প্রেম হয়েছিলো। কিন্তু শিমুলের অভিভাবক রাজী না হওয়ায় সে সম্পর্কও চুকে যায়। সেই থেকে রুদ্র আরো বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে যান। ভেতরে ভেতরে একা হয়ে যেতে থাকেন। কবির ভাষায়,

এতোটা নিঃশব্দে জেগে থাকা যায় না, তবু জেগে আছি
আরো কতো শব্দহীন হাঁটবে তুমি, আরো কতো নিভৃত চরণে
আমি কি কিছুই শুনবো না- আমি কি কিছুই জানবো না!

অতিরিক্ত অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার ফলাফল যা হয়, শেষমেষ আলসারে পেয়ে বসেছিল রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে। পায়ের আঙ্গুলে রোগ বাসা বেঁধেছিল। ডাক্তার বলেছিলো পা বাঁচাতে হলে সিগারেট ছাড়তে হবে। তিনি পা ছেড়ে দিয়ে সিগারেট নিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার ফলে রুদ্রর নতুন ঠিকানা হলো হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের ২৩১ নম্বর কেবিন। ১৯৯১ সালের ২০ জুন ভালো হয়ে পশ্চিম রাজাবাজারের বাড়িতে ফিরে যান রুদ্র। কিন্তু ২১ জুন ভোরে দাঁত ব্রাশ করতে করতে অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর কাছে পঁয়ত্রিশ বছরের স্বেচ্ছাচারী জীবনের সমর্পণ করে আঁধারপুরের বাসিন্দা হন বাংলা সাহিত্যের এ নক্ষত্র।
                                     সমাপ্ত
তথ্য সুত্রঃ https://goo.gl/RG1Xaq , https://goo.gl/NW3vms , https://goo.gl/VMAfBK , https://goo.gl/qBQahf